বিশ্বাসঘাতক
নীলিমা আক্তার নীলা
——————————
বাবাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে,
আমার কারণে বাবা যে এতোটা শক খাবেন ভাবিনি
খুব মারাত্মক ভাবে স্টোক করেছে বাবা,
ডাক্তারের মুখ দেখে মনে হচ্ছে –
আরেকটি দূর্ঘটনা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
পৃথিবীতে বাবা ছাড়া আমার কেউ নেই
তেমনি আমাকে ছাড়া ওতো বাবার কেউ নেই।
হসপিটালে অনেক লোকজন
খুব শব্দ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে
কিন্তু পারছিনা
মানুষের এতো কোলাহলে –
শব্দ করে, চিৎকার করে, কান্না করা যায় না
তারপরও তো কাঁদছি
বার বার চোখ ভিজে যাচ্ছে,
বার বার চোখের পানি মুছে যাচ্ছি
আর পাগলের মতো এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছি।
সজলের আজ বিয়ে
যাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম
তার আজ বিয়ে,
সজল আমাকে এতোটা ধোঁকা না দিলেও পারতো
এতোটা আঘাত না করে
এতোটা বিশ্বাসঘাতকতা না করে
সে যদি আমাকে খুন করে ফেলতো
সে যদি একজন খুনি হতো
তাহলে হয়তো এতোটা কষ্ট
আমার সহ্য করতে হতো না
এতোটা কষ্ট হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করতো না কখনো।
কিছুদিন আগে বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে
আমার বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল,
আমি বাবার পা জড়িয়ে কাঁদলাম,বললাম-
সজলের সাথে আমার পাঁচ বছরের সম্পর্কটা
তুমি শেষ করে দিও না বাবা
তাহলে আমি মরে যাবো।
অনেক ইনিয়েবিনিয়ের পর
বাবা তার একমাত্র সন্তানের কথা ফেলে দিতে পারলেন না।
আজ বাবাকেই বলতে হলো-
সজলের আজ বিয়ে,
বাবা সাথে সাথেই স্টোক করলেন।
হসপিটালের বারান্দায় বসে –
মুখে কাপড় চেপে ডুকরে ডুকরে অনেকক্ষণ কাঁদলাম,
কি যে ভয়ানক কষ্ট আমাকে আঁকড়ে ধরেছে
তা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই,
শক্তি আমার নেই।
বাবার বেডের দরজার পাশে এসে দাঁড়ালাম,
ডাক্তার বেড়িয়ে এলেন, শুকনো মুখে বললেন, দুঃখিত আপনার বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না।
এই প্রথম আমি সমস্ত মানুষকে অগ্রাহ্য করে
চিৎকার করে, বাবা, বাবা বলে কাঁদছি
হয়তো আমার কান্নায় –
অনেকেই কাঁদছে নিঃশব্দে।
