স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশার দায়ভার কার ?

সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশার প্রধান দায়ভার কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ডাক্তারদের।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইহাত উজাড় করে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু উক্ত বরাদ্দের সবটুকু লুটপাটের যে খেলা চলছে, এর মূলকারণ ডাক্তাররা। সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর( বিএসএমএমউ সহ আরও হাতেগোনা কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ব্যতীত) দিকে তাকালেই বুঝা যায় সরকারি হাসপাতালগুলোর কি বেহাল দশা। সরকারি হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে যায়, তাদের প্রায় সবাই একরকম বাধ্য হয়ে আসে চিকিৎসাসেবা নিতে, তাদের অধিকাংশের প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে না। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার অধিকাংশ সিভিল সার্জনই দুর্নীতিগ্রস্ত। অধিকাংশ জেলা হাসপাতালে ডিউটি টাইমে ডিউটি ডাক্তার খুজে পাওয়া যায় না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তাররা যেন একেকজন মহারাজা, আর তাদের স্টাফগুলোকে ডাক্তার মনে হয়, কারণ অধিকাংশ কাজই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এদের দ্বারা হয়ে থাকে, যেখানে ডাক্তারদের কোনক্রমে দায়ভার এড়ানোর সুযোগ থাকে না, সেখানেই কর্তব্য পালন করে। ইদানীং করোনা শুরু হওয়ার সারাদেশের ডাক্তারদের পাশাপাশি আমাদের মত আমপাবলিক স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা নিয়ে ব্যাপক তৎপর; কিন্তু স্বাস্থ্যখাতের এ বেহাল দশার জন্য প্রধানত কারা দায়ী?????উত্তরঃ ডাক্তাররাই দায়ী কেন দায়ী???? কারণ, স্বাস্থ্যখাতের ডাক্তারদের ছাড়া কোন কিছু করার সুযোগ নাই, স্বাস্থ্যখাতের মূলস্তম্ভ হচ্ছে ডাক্তার। সারাদেশের অধিকাংশ সিভিল সার্জন দুর্নীতিগ্রস্ত, যখন দলনেতা দুর্নীতিগ্রস্ত তখন বাকি ডাক্তারদের অবস্থা ত আমরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখতে পাই, সর্বত্রই চুরির মহাউৎসব। স্বাস্থ্যখাতের কোন অপকর্ম ডাক্তারদের ছাড়া করা সম্ভব না, মহামারী করোনাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সারাদেশে শীর্ষপর্যায়ের সাথে ভিডিও কলিং শুরু করলেন, তখনই (নারায়ণগঞ্জ ব্যতীত) সিভিল সার্জনদের মিথ্যা বলা দেখলেই বুঝা যায় এরা কতবড় চামবাজ!সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সরকার প্রত্যেক বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়,এই বরাদ্দ চোর বাটপারের সাথে মিলে নিজেরা খাওয়ার জন্য যত প্রকার চামবাজি কোর্স করা দরকার সবই তাদের কমপ্লিট।কথায় কথায় বলে, এসব চামবাজেরা নাকি উপর মহলের কাছে ধরা, কিন্তু আমরা সবাই জানি, অন্যায় কখনো ন্যায়ের সাথে জয়ী হয় না, যারা চুরি বাটপারির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন, প্রথমে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়লেও পরবর্তীতে অন্যায় করে পার পাওয়ার সুযোগ নাই, “চোরের দশদিন, গৃহস্হের একদিন সমান”।আপনাদের মহান পেশাজীবী হিসেবে সম্মানিত করা হয়, আপনারা এসেছেন সেবা করার জন্য কিন্তু সেবার আদলেই যদি চোর বাটপারের সাথে আপনারা সেবার বদলে দুর্নীতিতে যোগ দেন তাহলে ত আর আপনারা চোর বাটপারই হয়ে গেলেন, কারণ সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ ডাক্তারের অবস্থা তাই নির্দেশ করে, আপনাদের কাছে সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে সরকারি বেতন নিয়ে দায় মেটানোর জায়গা আর মানবতার জায়গা হচ্ছে প্রাইভেট চেম্বার/হাসপাতাল।সারাদেশে যে কয়েকটি হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেসব হাসপাতালগুলো তে গেলেই দেখা যায় কি বেহাল দশা রোগীদের, ইদানীং ত গণমাধ্যমকর্মীদের এই ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হয়েছে। আপনারা চিকিৎসকরা দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের সাথে মিলে চুরির উৎসবে মেতেছেন। সর্বোপরি, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় যে অনিয়মগুলো সেই অনিয়মগুলো একমাত্র আপনারাই পারেন রুখে দিতে,কারণ আপনাদের স্বাক্ষর ব্যতীত চোর-বাটপারগুলো যতই প্রভাবশালী হোক কোন অন্যায়-অনিয়ম করতে পারবে না, চিকিৎসাপেশা একটি মহান পেশা, মহান পেশার লোকগুলো যেন মহান থাকুক সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণীর মানুষ তাই চায়।
লিখেছেন মোঃ কামরুল হুসাইন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *