পত্র কাব্য: শুভ্রা ভাল থেকো

প্রিয় শুভ্রা বৈশাখে মাঝামাঝি কোন সময়ে বসে তোমাকে লিখতে বসেছি।তুমি জানো বিশ্ব আজ এক অদৃশ্য ভয়ে কাঁপছে।বড় অসময় চারদিকে।কোথাও আশার শব্দ টুকু নেই।মানুষ নিজেকে বাঁচানোর শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে।

কবর, চার্চ,শশানে লাশের সারি বেড়ে চলছে।প্রিয় মানুষ হারিয়ে অনেকে হচ্ছে দিশেহারা। গত শত বছরে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখেনি বিশ্ব।
বাধ্যতামূলক ছুটিতে গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছি।বৈশাখের দিন মনে হচ্ছে বর্ষার মত।আগে কখনও এমন দেখা যায়নি।

সকালে সূর্যের প্রকোপ কিছুটা অনুভব করলেও দুপুর হতেই দক্ষিণ আকাশে কালো মেঘ এসে জমে।বিকেল হতেই জমে থাকা মেঘ বৃষ্টিতে রূপ নেয়। সেই বৃষ্টি বিকেল ফেরিয়ে রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।আমার থাকার রুমের পাশেই একটা আম গাছ।আম গাছে কিছু কাঁচা আম দেখা যাচ্ছে।আম গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়লে মনে হয় তোমার এক পায়ের নুপুরের শব্দ বেজে উঠে। আজ কয়েকদিন রাতে বৃষ্টির সাথে ঠান্ডা পড়ছে।শেষ রাত্রিতে মাঘের শীতের মত কাপুণী দেওয়া শীত অনুভব হয়।

শুভ্রা পৃথিবীর যে কয়েকটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ মানুষের ভীষণ ভাবে পরিচিত তার মধ্যে বৃষ্টি অন্যতম।বৃষ্টি এলে মানুষের পুরোনো দিন পুরোনো সময় কে জাগিয়ে তোলে।

শেষ বার যখন তোমাকে দেখেছি।তখন তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বসে দীঘল কালো চুল সামলে নিচ্ছো।

এখনও বিকেল হলে তোমার দীঘল কালো চুলের মত দক্ষিণ আকাশে আমি মেঘ দেখি।কিন্তু তুমি সেই মেঘ সামলাতে পারো না।বৃষ্টি হয়ে অঝোরে ঝরে পড়ে সেই মেঘমালা।

শুভ্রা, তোমার নীল রঙের শাড়ীতে, কালো চোখে কাজল, কপোলে ছোট টিপ, ঠোঁটে লাল লিপিস্টিকে এসো আবার দেখা হবে এই অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে। আমাদের তৃতীয় বিশ্বে।

নিজের যত্ন নিও। ভাল থেকো শুভ্রা।

লেখক: সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *