সিরিজ: নীলাদ্রীর দিনকাল

হঠাৎ করেই ঘড়ির এ্যালার্ম বেঁজে উঠলো!ঘড়িতে সকাল ৮ টা।

ঘুম ভেঙ্গে গেল অন্তুর। রাতে ঘড়িতে এল্যার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছিল।সেই এ্যালার্মই এখন বেঁজে উঠলো। তাড়াহুড়া করে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো, অন্তু। সকাল আট টা বিশ মিনিটে ক্লাশ ধরতে হবে। ক্যাম্পাসের পাশেই একটা ফ্ল্যাটে কয়েকজন বন্ধুর সাথে থাকে অন্তু।হেঁটেই যাওয়া যায় ক্যাম্পাসে। কোন রকম সাদা-মাটা শার্ট,প্যান্ট,আধো পুরোনো জুতা গুলো পায়ে দিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেল অন্তু। কাঁধে ঝুলানো ব্যাগটাও নিয়েছে। বাসার নিচের গেইটের ছোট দোকান থেকে একটা সিগারেট নিয়ে,পকেটে থাকা দিয়াশলাই দিয়ে সিগারেটে আগুন দিতে দিতে ক্যাম্পাসের দিকে হাঁটা শুরু করলো অন্তু।

পিছন থেকে চা দোকানদার মামা ডাক দিয়ে বলল, মামা আজ চা খাবেন না? অন্তু, বাম হাত উঁচু করে ইশারায় উত্তর দিলো: না,মামা। ক্লাশের দেরি হয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস থেকে ফিরে খাবো। বাসার পাশে দোকান হওয়াতে দোকানদার মামার সাথে ভালই সম্পর্ক জমে উঠেছে অন্তুর। অন্তু, ফুটপাত হয়ে,জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নীরবে হেঁটে চলছে।আজ একটু হাঁটার গতি বেশী। সামনে সেমিস্টার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাশ গুলো করতে হবে। নীলাদ্রীর সাথে অন্তুর সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছে,আজ দুই মাস হয়েছে।

ক্যাম্পাসের যেখানে দাঁড়িয়ে নীলাদ্রীর সাথে অন্তুর শেষ কথা হয়েছিল দুই মাস আগে। ক্যাম্পাসে আসতেই ঠিক সেখানেই নীলাদ্রীকে আজ দেখতে পেলো অন্তু। গত দুই মাসে কেউ কারো সাথে একদিনের জন্যেও মেসেজ,কল বা অন্য কোন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেনি।কারও সাথে কারও দেখাও হয়নি। হঠাৎ ক্যাম্পাসের গেইটে দাঁড়িয়ে গেল,অন্তু! এতক্ষণে, অন্তুর দিকে চোখ পড়েছে, নীলাদ্রীর।অন্তুর,চোখে চোখ পড়ার সাথে সাথেই, অন্যদিকে তাকিয়ে নীলাদ্রী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলো। অন্তু,গতকাল রাতে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছে নীলাদ্রী ক্যাম্পাসের এক বড় ভাইয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এক সাথে ঘুরে বেড়ায়,ক্যাম্পাস শেষে রিক্সায় তাদের কে অনেকেই একসাথে দেখেছে। অন্তু, এতদিন এসব বিশ্বাস করতো না।কিন্তু গতকাল রাতে বন্ধুর কাছ থেকে কিছু প্রমাণসহ পেয়েছে। অন্তু, ভেবেছিলো সাময়িক অভিমান করেছে নীলাদ্রী।এর আগেও তাদের সম্পর্কে এমন হয়েছে।আবার তার কাছেই ফিরে আসবে।

কথাগুলো ভাবছে আর,নিজের বিভাগের ভবনের দিকে হাঁটছে অন্তু। আর মনে মনে বলছে, আজ-কাল নীলাদ্রী ভাল আছে! বেশ ভাল আছে! এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে নিজের বিভাগের ক্লাশের সামনে চলে এসেছে অন্তু, বুঝতে পারলো না। স্যার,ক্লাশ শুরু করেছেন। দশ মিনিট হয়ে গেছে। স্যারের অনুমতি নিয়ে ক্লাশে প্রবেশ করলো, অন্তু। সেদিন আর ক্লাশে মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেনি।বার বারই মনে পড়ছিলো পুরোনো দিন, পুরোনো কথা,এক সাথে থাকার সকল প্রতিশ্রুতি!

ধারাবাহিক ভাবে চলবে………

লেখক:সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *