বিল্লাল হোসেন,যশোর থেকে
রোববার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে মৃতের স্বজনরা মেডিসিন ওয়ার্ড হট্টগোল করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধরা দায়িত্বরত সেবিকা মুক্তি রানীকে লাঞ্চিতের পাশাপাশি এক যুবককে মারপিট করেছে। বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় প্রশিক্ষণার্থী ৪ চিকিৎসককে কর্তৃপক্ষ শোকজ করেছে বলে জানা গেছে। ওয়ার্ডের ভর্তি রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যানুযায়ী, সিভিডিতে আক্রান্ত আবু হোসেনকে (৭৫) রোরবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের হালসা গ্রামের বাসিন্দা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, তারা খোঁজ করে জানতে পারেন রাতে ওয়ার্ড দায়িত্বরত দুই জন চিকিৎসক সেহরি খাওয়ার জন্য বেড়িয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। রোস্ট্রার অনুযায়ী সকাল থেকে যে দুই চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের কথা তারাও ওয়ার্ডে আসেননি। একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় তাদের রোগী মারা যান। ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন স্বজন একটু জোরে কথা বললে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এতে বিক্ষুব্ধরা ওই সেবিকার উপর চড়াও হয়। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সেবিকা মুক্তি রানী জানান, ওই রোগী মারা যাওয়ার পর ওয়ার্ডে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হলে আমি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদের কক্ষে যায়। বিষয়টি জানিয়ে ওয়ার্ডে ফেরার সাথে মৃত রোগীর স্বজনরা আমাকে লাঞ্চিত করে। আমাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসে বহিরাগত রাসেল নামে এক যুবক। এসময় বিক্ষুব্ধরা তাকে জখম করে। রাসেল বর্তমানে মডেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও আরিফ আহমেদ জানান, বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা জানতে পেরে ওয়ার্ডে যায়। সেখানে দায়িত্বরত কোন চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ৪ জন প্রশিক্ষণার্থী (ইন্টার্ন) চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। সোমবার জবাব দেবেন তারা। জবাব মনোনীত না হলে ওই ৪ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, এর আগে গত মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মারা যান যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামের আনারুল হকের ছেলে আলমগীর কবির ও নড়াইলের নাড়গাতি থানার নারী ওসির রোকসানা খাতুনের স্বামী আহসানুল ইসলাম।