টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ভাঙ্গগনের কবলে অর্ধশত পরিবার

মাসুদ রানা টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওায় প্রায় অর্ধশত পরিবারের বাড়ি-ঘর ভেঙে নদী গর্ভে চলে গেছে। এছাড়া আরও প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আ. মতিন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ১০০ মিটার এলাকায় ৬ হাজার ৬০০ জিও ব্যাগ ফেলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রক্ষার চেষ্টা করছে। এছাড়া স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় থেকে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। আম্পানের প্রভাবে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ৫ দিনে পানি বৃদ্ধি পায় যমুনায়। সে কারনে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া; নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা ও সারপলশিয়া গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।যমুনায় পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙন শুরু হওয়ায় খানুরবাড়ী গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয় কেন্দ্র, সার্বজনীন কালীমন্দির, বেপারীপাড়া জামে মসজিদ, কস্টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভালকুটিয়া জামে মসজিদ, ভালকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ভালকুটিয়া পুরাতন জামে মসজিদ, বাইনতাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ স্থানীয় শতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙনের মারাত্মক আশঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাইনতাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে ৩-৪বার করে ভাঙনের শিকার হওয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলেই কেবল পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে, আগে থেকে কাজ করলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হতো। এবারও ভাঙন শুরু হওয়ায় গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সার্বজনীন কালী মন্দিরের ভাঙন রোধে অল্প কিছু জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য।
তারা জানায়, তারা নিজেদের উদ্যোগে ঘন ঘন বাঁশ পুঁতে কোন রকমে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা আরো জানায়, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ ২০০-২৫০ ঘর-বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়ে নদীর পেটে চলে যাবে।

গোবিন্দাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা জানান, হঠাৎ করে ২৭ মে থেকে যমুনায় পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডি’র গ্রাম্য সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি দাবি করেন, গোবিন্দাসী ফেরী ঘাট থেকে দক্ষিণে মাটিকাটা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার নদীতীরে জিওব্যাগ ফেললে ভাঙন কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে। তাছাড়া ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী আ. মতিন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ ভূঞাপুরের ভাঙন কবলিত এলাকা ২৯ মে(শুক্রবার) পরিদর্শন করেছেন। আপদকালীন কাজ হিসেবে গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষার্থে ১০০ মিটার এলাকায় ৬ হাজার ৬০০ জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ভূঞাপুর থেকে সদর, নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত যমুনার বামতীরের অরক্ষিতস্থান সমুহ রক্ষণাবেক্ষণে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের শেষ দিকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি বড় প্রকল্প পাউবোতে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ভূঞাপুর থেকে সদর, নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত যমুনার বামতীরের অরক্ষিতস্থান সমুহ রক্ষণাবেক্ষণে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের শেষ দিকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি বড় প্রকল্প পাউবোতে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি অমুমোদন না হওয়ায় ২৫০-৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহন করে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *