মাসুদ রানা টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট । ফলে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মুজুরি । সে কারনে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম নিয়ে লোকাসানের মুখে রয়েছে কৃষক। একদিকে ধানের বাজার মূল্য কম অপরদিকে শ্রমিক সংকট। এ নিয়েই বিপাকে পড়েছে তারা । জানা গেছে, উপজেলায় শ্রমিকদের জনপ্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটতেই প্রতিমণ ধানের খরচ পড়ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এছাড়া জমি চাষ, সেচ, চারা ও সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি থাকায় অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধান কাটার কাজ করছে। প্রতিটি এলাকায় এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।মাঠে মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক কৃষক। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক।বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। এতে ধানের দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকের ।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার কালিয়াগ্রামের কৃষক শাহজাহান পাঠান জানান, তিনি এ বছর ২০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছে । জমিগুলোর ধান কাটা শুরু করেছে। এখন ধান ঘরে তুলা নিয়ে লোকসানের হিসাব করছেন তিনি ।
কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছর ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়া লোকসান আরও বেশি হবে।
কৃষক হোসেন আলী ও হাসমত সহ অনেকেই জানান, বর্তমানে ধান কাটা একজন শ্রমিকের মূল্য ৮৫০-৯০০ টাকা। অপরদিকে এক মণ ধানের মূল্য ৬৫০ টাকা। এক মণ ধানের টাকায়ও একজন শ্রমিক মিলছে না। ফলে তারা জমির পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলতে লোকাসানে পড়ছেন ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, বোরো ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশ না হয়ে আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষন করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রয় করে দামটা ভালো পাওয়া যায়।