মো:রিয়াজুর রাশিদ রুবেল নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি।
২০রমজান:মক্কা বিজয়,মাটি নয়-মানুষের হৃদয় জয়।মাতৃভূমি মক্কার প্রতি ইঞ্চি ভূমিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন তিনি।স্বদেশের মানুষকে শান্তির সুমহান জীবনবিধান ইসলামের মর্মবাণী সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানিয়ে তাদের হেদায়তের জন্য তিনি অনেক কঠিন অত্যাচার সহ্য করেছেন।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় নিজ প্রতিবেশী, আত্নীয় এমনকি রক্তের সম্পর্কের স্বজনদের নির্মম অত্যাচারের কারণে ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজ কন্যা ও জামাতাসহ সাহাবিদের একটা দলকে আবিসিনিয়ায় হিজরত তথা দেশত্যাগের অনুমিত দিলেও তিনি প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে যাননি।মক্কার মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকেন মহান স্রষ্টার মহান রাসুল।পরিশেষে অবিশ্বাসীদের কূটকৌশল,ষড়যন্ত্র, চক্রান্তে স্বজাতীর নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে থাকাবস্থায় মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করেছিলেন।৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতকালে তিনি হৃদয়ের জমানো ব্যথা নিয়ে মক্কা নগরীর দিকে বারংবার ফিরে তাকান,আর কাতর কন্ঠে আফসোস করে বলেছেন,হে আমার প্রিয় স্বদেশ! তুমি কতই না সুন্দর!আমি তোমাকে ভালোবাসি! আমার আপন গোত্রের লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত,আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যেতামনা।৮ম হিজরীর ২০ রমজান মোতাবেক ৬৩০ খৃস্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি মদীনা রাজ্যর অধিপতি ফিরে এসেছেন মাতৃভূমি মক্কায়! তিনি ফিরলেন দশ সহস্রাধিক সহচর নিয়ে।পবিত্র পুরুষের সহচরদের কলকলধ্বনি “আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান”যেন গগনভেদী তূর্যনাদ।বুঝি সাত আসমান ছিদ্র করে খোদার আরশে সে আওয়াজ পৌঁছৈ যায়।কিন্তুু সেই বজ্রধ্বনির মাঝেই সবাইকে সাবধান করে এক গুরুগম্ভীর নিনাদ ভেসে আসলো,”খবরদার!কোনো নারী,শিশু ও বৃদ্ধের শরীরে আঘাত নয়! আঘাত করা যাবে না যারা তোমার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেনি।ওরা হামলা থেকে মুক্ত যারা অবস্থান করবে নিজের ঘরে কিংবা মক্কার নেতা আবু সুফিয়ান এর ঘরে।বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী এই এক বিন্দু রক্তপাতহীন এই জয় মানবতার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।বিনাশর্তে সকল বন্দিদের মুক্ত করে দিলেন।রাসুল (সা:)কাফেরদের সম্মুখে বললেন “তোমাদের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই,তোমরা যেতে পারো, আজ থেকে তোমরা মুক্ত”বিশ্ব ইতিহাসে মদীনার রাজাধিরাজ প্রমাণ করলেন,মাটির জয় খাঁটি নয়,মানুষের হৃদয় জয়ই আসল।