মাসুদ রানা টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারনে চরম জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ২৭ মে পানির স্রোতে নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মির্জাপুর উপজেলার সাথে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জানা গেছে, মির্জাপুর-সাহাপাড়া- ভাওড়া ও কামারপাড়া সড়কের কুমুদীনি হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর এলাকাবসী দীর্ঘ দিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছেন। আজও সেখানে নির্মাণ হয়নি একটি ব্রিজ । ব্রিজের অভাবে নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হলো নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো। তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কারনে নদীতে প্রবল স্রোতে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এতেকরে উপজেলার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় লাখ মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। মির্জাপুর তথা কুমুদীনি হাসাপাতালে আসার একমাত্র সহজ মাধ্যম এ সড়কটি। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করে। বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় নদী পার হতে পরতে হচ্ছে বিলম্বনায়। এলাকাবাসি জানায়, মির্জাপুর-সাহাপাড়া- ভাওড়া এবং কামারপাড়া একটি গুরুত্বপুর্ন রাস্তা। দুর্ভোগের শিকার পদযাত্রী লিয়াকত হোসেন (৫৫), শাহজালাল মিয়া (৬০) সহ কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, রাস্তাটি কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মান এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবী। সাহাপাড়া এবং কুমুদিনী কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাসহ নানা জটিলতার অযুহাতে এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মান আজও হয়নি। অথচ এখানে একটি পাকা সেতু অথবা টানা ফুট অভার ব্রিজ নির্মান হলে কুমুদিনী পরিবার এবং মির্জাপুরের দক্ষিনাঞ্চলের লক্ষাধিক জনসাধারন সহজেই উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে । নদীতে পাকা ব্রিজ অথবা টানা ফুট অভার ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় শুকনো মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকার উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসিকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াতের ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসি।এদিকে ঝড় ও বৃষ্টিতে নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এবং কচুরির পানার সঙ্গে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে ভেসে যাওয়ায় দুর্ভোগে পরেছেন এলাকাবাসি। এই নদীর উপর একটি পাকা সেতু অথবা একটি টানা ব্রিজ দ্রুত নির্মানের জন্য জোরদাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।এ ব্যাপারে মির্জাপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) চন্দনা দের জানান, কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর বাঁশের সাঁকো নির্মানের জন্য প্রতি বছর জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অফিস থেকে ইজারা দেওয়া হয়। এটা আমাদের পৌরসভার সাঁকো নয়। বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে গেলে যারা ইজারা এনেছেন তারাই মেরামত করবেন।