মনির আসলামী, চরফ্যাসন ভোলা।
পবিত্র শবে কদর মুসলীম জাহানে শ্নেষ্ঠ সম্মানিত রাত । এই রাতের গুরুত্বের উপর পবিত্র কোরআনে সুরা কদর নাজিল হয়েছে । যাহা একহাজার মাসের চেয়ে উত্তম ।যার গানিতিক স্বাভাবিক হিসাব ৮৩ বছর ৪ মাস ।।বলা যায় এক মানুষের পরিপূর্ণ জিন্দেগীর সমান ।মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর যেসব অবশ্যই করনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তা প্রতিপালন করে মানুষ বেহেস্ত লাভ করা কঠিন হবে ।তাই বান্দাকে পার করে নেয়ার জন্য মহান আল্লাহ এমনি অনেক নফল সুন্নত জিকির এবাদত দান করেছেন । মহান আল্লাহকে ডাকলে তিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন এই এবাদত তারই নমুনা এবং নেয়ামত স্বরুপ ।গতকাল ছিল সেই পবিত্র শবে কদর রাত ।মানুষ পবিত্র রমজানে রোজা রেখে সুপার সাইক্লোন আমফান এবং করোনা মোকাবিলা করে যে যার মত করে শবে কদরের এবাদত করেছেন ।
দশ নম্বর মহা বিপদ সংকেত নিয়ে আমফান গত রাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অনেক জনপদ লন্ডবন্ড করে দেয় । গত কয়েক দিন ধরে এর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক সংকেত জানানো হয়।তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ মুহূর্তের মধ্যে সকল সংকেত জানা সহ সব রকমের প্রস্তুতি নিতে পারছে ।এমনটি এক সময় আশা করা যায়নি । সত্তরের ১২ নভেম্বরের সাইক্লোন স্বচক্ষে পর্যবেক্ষন করেছি ।আজকের মত বেড়ী বাঁধ , সাইক্লেন সেল্টার , দ্বিতল তৃতল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , আবহাওয়া দপ্তরের সংবাদ পরিবেশন , ঘর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক , দূর্যোগ ব্যবস্হাপনার প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিছুই ছিলনা । যে কারনে সে সময় ভোলা জেলা সহ উপকূলীয় অন্চলের লক্ষ লক্ষ লোকের প্রান হানি ঘটেছে । অধিকন্তু সত্তরের সাইক্লোনে দেশ ছিল পরাধীন ।
সে সময় দেশের আবহাওয়া দপ্তর সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে ব্যর্থ হয় ।বরং বহির্বিশ্ব থেকে সত্তরের সাইক্লোনের সংবাদ আগে পরিবেশন হয় এবং দূর্যোগ কবলিত মানুষের সাহায্যে পাকিস্তান সরকারের আগে বহির্বিশ্ব সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে । সেদিন বিদেশী পর্যবেক্ষন বিমান উপকূলীয় অন্চলে সর্বপ্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে । বিদেশীদের ব্যাপক রিলিফ প্রদান দীর্ঘদিন অব্যহত ছিল ।বিমানে ফেলা রিলিফে চাপা পড়ে মানুষ মরেছে । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাৎক্ষনিক ভাবে সত্তরের সাইক্লোনে ক্ষতি গ্রস্হ ভোলার মানুষের পাশে এসেছিলোন ।পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালোর ১৩ ডিসেম্বর বন্যা উপদ্রুপ এলাকা হিসেবে চরকুকরী মুকরী পরিদর্শনে এসেছিলেন।অতপর সেদিন ই চরফ্যাসন কলেজ মাঠে এক জনসভায় ভাষণ প্রদান করেন ।
ঘূর্নিঝড় আমফানের গতিবেগ বাংলাদেশের সীমানায় এক তৃতীয়াংশ এবং ভারতে দুই তৃতীয়াংশ ছিল । ভারতের পশ্চিশ বঙ্গের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয় ।বাংলাদেশের পশ্চিমান্চলীয় উপকূলীয় জেলা সমূহ সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে । বিশেষ করে সাতক্ষিরা , মেহেরপুর ,খুলনা ,বাঘেরহাট,,বরগুনা পটুয়াখালি সহ আশে পাশের জেলা সমূহের উপর দিয়ে ঝড় প্রবাহিত হয় । নিম্মান্চল প্লাবিত হয় ।হাজার হাজার বাড়ী ঘর মাটির সাথে মিশে যায় ।অনেক জেলায় বেড়ীবাঁধ ভেংগে শতশত মাছের ঘের , ক্ষেতের ফসল প্লাবিত হয় । দেশের পশ্চামান্চলীয় অনেক জেলার মৌশুমী ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয় । দেশের মানুষকে যথারীতি নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয় । শত শত বিদ্যুতের খুটি উপড়ে যায় । সেসব এলাকায় বিদ্যুত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে কয়েকটি জেলায় । দেশের বিদ্যুত বিভাগের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয় ।আগাম প্রস্তুতির কারনে প্রানহানি কম হয়েছে ।সরকারি হিসাবমতে দশ জনের প্রান হানি ঘটেছে । আজ সকাল থেকে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে ।কিন্তু বাড়ী ঘর যে আমফানের আঘাতে বিরানভূমি ।
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ভোলা জেলা দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকলেও ক্ষয় ক্ষতি কম হয়েছে ।ভোলা জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে । চরফ্যাসনের ঢালচর , চর কুকরি মুকরি , চর পাতিলা সহ নিম্মান্চল প্লাবিত হয়েছে । গতকাল্য থেকে জন প্রতিনিধি , স্হানীয় প্রশাসন , ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচার এবং প্রচেষ্টায় জেলেরা নিরাপদে এসেছে , মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্হান করেছে । তবে এসব অন্চলে পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টারের অভাব রয়েছে । ভোলা—৪ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ঘূর্ণিঝড় আমফানের মোকাবিলায় দলীয় নেতা কর্মী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন ।আগামীদিন তিনি উপকূলীয় মানুষের দু:খ দূর্দশা দেখার জন্য তাঁর এলাকায় আসবেন এবং সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়াবেন ।
মনপুরা ,তজুমদ্দিন ,লালমোহন ও চরফ্যাসন উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্চলের ক্ষতি সাধন হয়েছে । অনেক যায়গায় বেড়ী বাঁধের ক্ষতিসাধন হয়েছে ।কোথাওকোথাও জনপ্রতিনিধি গন নিজেদের প্রচেষ্টায় তাৎক্ষনিক ভাবে ফাটল ধরা বেড়ী বাঁধ সংস্কার করেছেন । গতকাল দুপুর থেকে ভোলা জেলা বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছি্ন্ন থাকলেও আজ দুপুর বারটায় বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠে ।
উপকূলীয় বনান্চল ঘূর্ণিঝড় আমফানকে প্রতিরোধে কি পরিমান ভূমিকা রেখেছে , সুন্দর বনসহ বনান্চলের ধ্বংস লিলা তার প্রমান ।এমনি ভাবে যুগেযুগে সকল ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সুন্দর বন সহ অন্যান্য বনভূমি মায়ের ভূমিকা পালন করেছে ।দূর্ভাগ্য , ঝড় থেমে গেলে বন বনানী রক্ষার কথা আমরা ভুলে যাই ।জীবনের প্রয়োজনে আমাদেরকে বন রক্ষা করতে হবে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গাছ লাগাতে হবে । মনে রাখতে হবে আমার সন্তান আমার সাথে বেইমানী করতে পারে কিন্তু আমার হাতে রোপন করা গাছ কখনই আমার সাথে বেইমানী করবে না ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৃক্ষ সপ্তাহ উদ্বোধন কাল বলেছিলেন, “আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য। বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে যে সুন্দরবনটা রয়েছে, এইটা হলো ব্যারিয়ার। এটা যদি রক্ষা না হয় তাহলে একদিন খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ