দুনিয়াতে যেভাবে ছড়াচ্ছে ভন্ড দাজ্জালের প্রতারণা – বি.এম.সাবাব

চলমান পৃথিবীর ইতিহাস ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিতে নির্মম পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করলেও জীবাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা ত দূরের কথা অনেকে কল্পনাও করে নাই। হউক সে বিজ্ঞানী আর না হয় হউক সে আলেম-উলামা বা পুরোহিত। তবে যারা রাশিয়া-চায়নার মতন কেমিক্যাল ল্যাবে গবেষণা করেন তাদের হিসেব একেবারেই ভিন্ন।.এমনকি পৃথিবীর অনেক দেশের ডাক্তারেরাও করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত জ্ঞানে বিজ্ঞ নয় তাই সমস্ত দুনিয়াতেই একের পর এক ডাক্তারদের কোভিড-১৯ উপলক্ষে সেমিনার আলোচনা চলছে এবং চলবে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা থেকে নেওয়া ফতোয়া বিশ্ব বাজারে চলছে সাথে স্থান কাল পাত্র ভেদে হুজুর বা মনিষিরাও চুপ নেই।.পৃথিবীতে পূর্বে যেকোন মহামারীর সাথে করোনা ভাইরাসকে তুলনা করা যাবে না কারন পূর্বের মহামারী ছিল প্রাকৃতিক যেখানে করোনা ভাইরাস মানব সৃষ্ট ল্যাবে তৈরী মানব জীবন ধ্বংসী জিবাণু ।.৪৩০ খ্রিস্টপূর্ব: স্মলপক্স রোগটি ভেরিওলা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায় বলে বিবেচিত ছিল এই রোগটি একজন মানুষের ত্বকের সাথে আরেকজনের স্পর্শে ছড়ায়। এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়ায়। এই স্মলপক্সের কারণে খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ এ গ্রিসের এথেন্সে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়, যা ছিল ওই নগরের ২০ শতাংশ মানুষ।.৫৪১ খ্রিস্টাব্দ: পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের জাস্টিনিয়ানে ৫৪১ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া বাহিত রোগ প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই শ বছর এই রোগ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ছড়ায়। ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারী বলা হয় একে। দুই শ বছরে এই রোগটিতে মারা যায় প্রায় ১০ কোটি মানুষ।.কিছু ইতিহাস দেখে নেই ১৩৩৪ সাল: গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন হিসেবে স্বীকৃত ১৩৩৪ সালের প্লেগ আসলে ছড়ায় চীন থেকে। এরপর ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই ছয় মাসে প্লেগে মারা যায় ৯০ হাজার মানুষ। পুরো ইউরোপ জুড়ে মারা যায় আড়াই কোটি মানুষ।.১৩৪৬ সাল: এশিয়ায় ১৩৪৬ সালে প্লেগ মহামারী আকার ধারণ করে। ইতিহাসে তা দ্য ব্ল্যাক প্লেগ হিসেবে বিবেচিত। এই প্লেগ রোগ পরে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের ৬০ শতাংশ মানুষ মারা যায়। চার বছরে এশিয়া ও ইউরোপে মারা যায় ৫ কোটি মানুষ।.১৫১৯ সাল: বর্তমান মেক্সিকোতে ১৫১৯ সালে স্মলপক্স ছড়িয়ে পড়লে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।.১৬৩৩ সাল: ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীদের মাধ্যমে ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্পলপক্স ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা গেছে বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা।.১৮৬০ সাল: আধুনিক যুগে প্লেগ ছড়ায় ১৮৬০ সালে। এতে চীন, ভারত ও হংকংয়ে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। পরে ১৮৯০ এর দশকে প্লেগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়।.১৯১০ সাল: বিশ শতকের সবচেয়ে বড় প্লেগ মহামারী দেখা দেয় ১৯১০ সালে। চীনের মাঞ্চুরিয়ায় দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।.১৯১৮ সাল: বিশ্বজুড়ে ১৯১৮ সালে গ্রেট ফ্লু মহামারী রূপ নেয়। এতে দুই বছরে সারা বিশ্বে মারা যায় ৩ কোটির বেশি মানুষ। ১৯৫২ সাল: আমেরিকায় ১৯৫২ সালে পোলিওতে আক্রান্ত হয় প্রায় ৬০ হাজার শিশু, এতে তিন হাজারের বেশি মারা যায়।.১৯৮৪ সাল: প্রথম এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। এই ভাইরাসের কারণে এইডস রোগে সে বছরই আমেরিকায় মারা যায় ৫,৫০০ জন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এ পর্যন্ত এইডসে মারা গেছে আড়াই কোটির বেশি। ২০০৯ সাল: বিশ্বজুড়ে ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু বা এইচ ওয়ান এন ওয়ান ফ্লুতে ১৮,৫০০ জন মারা গেছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৫ হাজার বলেও ধারণা করা হয়। ২০১০ সাল: হাইতিতে ২০১০ সালে ভয়ংকর এক ভূমিকম্পের পর কলেরা মহামারী রূপ নিলে ১০ হাজার মানুষ মারা যায়।.যাই হউক আমি বলছি এখানে যত রোগ আছে সবগুলি প্লেগ বা বসন্ত কিন্তু কোভিড-১৯ এমন নতুন রোগ দুনিয়াতে একদম প্রথম যদিও ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাস পাওয়া যায় কিন্তু ব্যবসায়ের জন্য বাজারে আসে ২০২০ সালে অার এসেই তান্ডব শুরু। যদিও সিম্পসম কার্টুনে সিলভিয়া ব্রাউনিং এর দ্যা এন্ড টাইম গ্রন্থে সুস্পষ্ট উহান থেকে বিস্তৃত ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র বলা হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা ভাইরাস বলে করোনা ভাইরাসকে আখ্যায়িত করেছে তাই বোঝায় যাচ্ছে এটা কোন সাধারণ প্রাকৃতিক মহামারী বা রোগ নয় ।.ভারতে অনেকে গোরবের থেরাপি দিচ্ছে এবং অনেকে বলছে গরুরু মুত্র খাইলেই করোনা উধাও হবে এইগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন , বিজ্ঞান অথবা ধর্ম কোনাটাই সমর্থন করে না এই ধরনের পুরোহিতদের সিদ্ধান্তকে। আবার রামদেব অনেক উল্টা পালটা কথাই বলছে নাক দিয়ে তেল ঢুকালে করোনা পালাবে এইগুলির ভিত্তি নাই , করোনা ভাইরাসের সাথে নাকে তেল দেওয়ার সম্পর্ক নাই । এবার আসি ইসলামে.বর্তমান সময়ে করোনা জীবাণুঅস্ত্রকে কেন্দ্র করে মুসলমান নামধারী কিছু ইহুদিদের এজেন্ট ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছে। এরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদে নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ। তাই মুসলমানদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলো,ছোঁয়াচে রোগ বিষয়ে মুসলমানদের মৌলিক যে আক্বীদা রাখতে হবে:وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْوى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ.হযরত আবু হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, ছফর মাসে কোন অশুভ নেই।.ইসলামে ছোয়াচে রোগ নাই কিন্তু ইসলামে এটা কিন্তু বলে নাই যে ছোয়াচে জীবাণুঅস্ত্র নাই , তাই ইসলামের সাথে অনেকটা সাংঘরষিক হয়েই যাচ্ছে । আর আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বদাই বলেছেন দাজ্জাল খুব ধোকাবাজ হবে , দুনিয়ার ইতিহাসে সবচাইতে বড় ফিতনা হবে দাজ্জালের ফিতনা । সত্যের সাথে মিথ্যা মিশ্রিত করে উপস্থাপিত করা হবে আর এই কাজে সাহায্য করবে দাজ্জালের এজেন্টরা । কি দেখলেন ত সেই কথাটা , দাজ্জালের ফিতনা খুব ভয়াবহ হবে এবার আসুন করোনা ভাইরাস নিয়ে দেখি.প্রথম বলা হইল বাদুর থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি , পরে বলা হইল চীনের সামুদ্রিক মৎস বাজার থেকে উৎপত্তি তারপরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক ডাউন এবং ইসলামি লেবাজের হুজুরেদের ফতোয়া মক্কা-মদীনা বন্ধ , তারপরের সারা বিশ্বের ঘটনা আপনারা জানেন ।.প্রশ্ন হইল পৃথিবীর সকল বিজ্ঞানী একত্র হয়েও এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারল না , প্রতিরোধ করতে পারল না এই রোগটিকে প্রতিদিন মানুষ মারাই যাচ্ছে ছোয়াচে জিবাণুঅস্ত্রে , ঠিক তখন আলেম সহ ইসলামি স্কলাররা বুঝতে পারল বা সন্দেহের মাত্রা গাঢ় হতে লাগল এটা সুনিশ্চিত দাজ্জালি ফিতনা তাই তারা মসজিদ খুলে দিতে বলছে এবং এর মধ্যেই সমাধান নিহিত । আমি আর আপনি যত বড় গবেষক দাজ্জাল আমাদের চাইতে বড় গবেষক , আমরা যত বড় বিজ্ঞানী দাজ্জাল আমাদের সবার চাইতে বড় বিজ্ঞানী , আপনি নিজেই যদি কাউকে ধোকা দিতে চান তবে আপনি সবার আগে চিন্তা করেন যাকে ধোকা দিবেন সে কি কি ভাবতে পারে ঐ দিকগুলি বিবেচনা করেই ধোকা দেবার প্লান করেন ঠিক তেমনি দাজ্জালো প্লান করেই ধোকা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারকে হাতে নিয়ে তবে আল্লাহ দাজ্জালের চাইতেও জ্ঞানী , মহাজ্ঞানী দয়াময় । তাই দাজ্জালের শক্তির সোডাউন দেখে ভয় পাবেন না মনে রাখবেন ঈমানদার দের জন্য আল্লাহই যথেষ্ঠ ।.তবে সত্য কথা যারা দাজ্জালের সম্পর্কে জানবে না তারা ধোকার মধ্যে জড়িয়ে যাবে নিজের অজান্তেই । তাই আমাদের কিছু কিছু জ্ঞান অর্জন করা উচিত । আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুক এমন ফিতনা এবং পরীক্ষার হাত থেকে , আমিন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *