ঘাটাইলে সকল বাধা পেরিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে প্রতিবন্ধী জাহানারা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সকল বাধা পেরিয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে তাক লাগিয়েছে বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী জাহানারা। সে উপজেলার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে । তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের চারজনই প্রতিবন্ধী । এ অবস্থায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যে থেকেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে জাহানারা।

প্রতিবন্ধকতা কখনোই সাফল্যকে আটকে দিতে পারে না, তারই প্রমাণ জন্মগতভাবেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাহানারা। অক্ষমতাকে জয় করে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রতিবন্ধীর বাবার প্রতিবন্ধী মেয়ের এমন সাফল্যে এলাকায় এলাকার মানুষ খুশি হলেও জাহানারার পরিবারের দুশ্চিন্তা মেয়ের কলেজে ভর্তি নিয়ে।

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল এসই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় জাহানারা। তার ইচ্ছে ছিল, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেতে হবে। প্রতিবন্ধীতা আর দারিদ্র সে ইচ্ছেকে চাপিয়ে রাখতে পারেনি।
জাহানারার মা বিনা বেগম বলেন, জাহানার জিপিএ-৫ পেয়েছে ঠিকই। আমরা এতে সবাই খুশি। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীকতা নিয়ে মেয়েটি সংগ্রাম করে এতদূর এসেছে। তবে মেয়ের রেজাল্টে খুশি হলেও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই মা বীণার। কারণ মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ওকে কলেজে ভর্তি করাতে হবে। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে তেমন ভালো কলেজ বা লেখাপড়ার সুযোগ কম। তার ওপর আবার সীমাহীন দারিদ্র।
তিনি আরও বলেন, একটি ভালো কলেজে দিতে গেলে সেখানে কাউকে রাখতে হবে। যেহেতু সে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী- কথা বলতে পারে না, তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাউকে না কাউকে থাকতে হয়। তাই কীভাবে মেয়েকে লেখাপড়া করাবেন এ নিয়ে চিন্তিত তিনি। তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মেয়ের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করবেন বলে জানান মা বীণা বেগম।
২০০০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বীণা বেগমের একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। তখন থেকেই জাহানারা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সামাজিক অনেক প্রতিকূলতাও মোকাবিলা করতে হয় তাদের। অভাবের সংসার। তারপরও বেড়ে ওঠা শিশুটির চাহনি, মেধা মা বীণার মনে সাহস যোগায়। মায়ের কাছে প্রথমে অক্ষর জ্ঞান নিতে থাকে জাহানারা। বাসা থেকে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা সহজ ছিল না। তাই ঘাটাইল প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করা হয় জাহানারাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে একই স্কুল থেকে পিএসসিতে ভালো ফলাফল এবং ২০১৮ সালে একই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৩.৫০ পায় জাহানারা।
জাহানারার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী, কাজ করেন দিনমুজুরির। দিনমুজুরির এই উপার্জন দিয়েই চলে সংসার চলে। পরিবারটির পাঁচ সদস্যের চারজনই প্রতিবন্ধী, এ অবস্থায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যে থেকেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে জাহানারা
বীণা বেগম জানান, মেয়ের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু শারীরিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় মেয়েকে বোঝানো হয়, এটা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। মেডিকেলে পড়তে গেলে ব্যবহারিক অনেক কাজ থাকে। তাই জাহানার এখন লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে আগ্রহী।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল এসই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বুলবুলি বেগম বলেন, “প্রতিবন্ধী জাহানারা স্কুলে থাকাকালে আমরা তাকে অনেক সহযোগিতা করেছি। আমি জাহানারার মতো প্রতিবন্ধীসহ সকল প্রতিবন্ধীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। জাহানারার সাফল্যর কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।”মাসুদ রানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *