ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে আ.লীগের টিকেট পাচ্ছেন রিপন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৫ (ডেমরা-যাত্রবাড়ী ও আংশিক কদমতলী) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। তার মৃত্যুতে এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন এক ডজনের উপরে নেতা।জানা যায়, ঢাকা-৫ আসন উপনির্বাচনে আ.লীগের টিকেট পেতে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন। এমনই আলোচনা চলছে ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর থানা পর্যায়ের অনেক নেতা ও তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের ক্লিন ইমেজ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এদের কারও কারও বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার বিচারে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন। তিনি পরিছন্ন ও ক্লিন ইমেজ রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে রাজনীতির উত্তান কামরুল হাসান রিপনের। ১৯৯২ সালে দনিয়া কলেজের ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, ১৯৯৫-৯৮ পর্যন্ত জবি হিসাব বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক, ১৯৯৮-২০০৩ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, ২০০৩-২০১০ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং কাউন্সিলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির।
পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ হিসাব বিজ্ঞান সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একাউন্টটিং এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় কামরুল হাসান রিপন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জানা যায়, ঐ সময় রিপনের নেতৃত্বেই ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয় ছাত্র শিবির। তার নেতৃত্বে শিবিরের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মূহুর্মূহু সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষগুলোতে ছত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিজের শরীরের রক্তও ঝড়িয়েছিলেন রিপন। নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। তখন রিপন সারাদেশে ‘শিবির নিধন রিপন’ হিসেবে বেশি পরিচিতি লাভ করেন।
ওয়ান ইলেভেনের লড়াই সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চার-পাঁচ বার জেল খাটা ও প্রায় ২৫ টি মামলা খেতে হয়েছে। বর্তমানে তরুনদের কাছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইকন হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছেন কামরুল হাসান রিপন। রিপন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। জনগণের খোঁজ-খবরও নিয়মিত রাখেন। বর্তমানে মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন রিপন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে নিয়মিত সাধারন মানুষের মাঝে ত্রাণ ও রোজাদারদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বেইে পিছিয়ে পড়া ডেমরা থানা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম অনেকটা গতিশীলতা পেয়েছে। তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী তথা ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নানান ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *